তিনি পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন, আবার এর বিপরীতে তা ধ্বংসও করবেন।
তিনি জীবন দিয়েছেন, আবার মৃত্যুও দেবেন।
তিনি সমস্যা দিয়েছেন, আবার তার সমাধানও রেখেছেন।
তিনি রোগ দিয়েছেন, তার মুক্তিও দান করেছেন।
তিনি আলো দিয়েছেন, তার বিপরীতে অন্ধকারও দিয়েছেন।
তিনি পজিটিভ দিয়েছেন, আবার নেগেটিভও রেখেছেন।
তিনি ভালো দিয়েছেন, আবার মন্দও দিয়েছেন।
তিনি স্বামী দিয়েছেন, আবার স্ত্রীও দিয়েছেন।
তিনি ছেলে দিয়েছেন, আবার মেয়েও দিয়েছেন।
এভাবে প্রতিটি বিষয়ই তিনি জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছেন। একটু গভীরভাবে খেয়াল করে দেখুন, সবকিছু কত সুন্দর ভারসাম্যপূর্ণ!
দৃষ্টি যখন সমস্যার দিকে: আপনি যদি কেবল সমস্যার কথা চিন্তা করেন, তবে চারপাশটা আপনার কাছে অন্ধকার, জটিল এবং দেয়ালঘেরা মনে হবে। তখন মনে হবে আপনার ওপরে-নিচে, ডানে-বামে কেবল বিপদের পাহাড়।
দৃষ্টি যখন সমাধানের দিকে: আর আপনি যদি একটু মনকে স্থির করে সমাধানের পথের দিকে তাকান, তবে দেখতে পাবেন আল্লাহ তাআলা ঠিকই আপনার আশপাশে কোনো না কোনো দরজা খোলা রেখেছেন। তখন ডানে-বামে, সামনে-পেছনে হাজারটা সম্ভাবনার আলো ও সুযোগ উঁকি দেয়।
কুরআনের সেই চিরন্তন বাণীটি এখানে বড় বেশি মনে পড়ে—"নিশ্চয়ই কষ্টের সাথেই স্বস্তি রয়েছে।" (সূরা ইনশিরাহ, আয়াত: ৫-৬)। অর্থাৎ, সমস্যা যেখানেই থাকে, ঠিক তার পাশেই বা তার ভেতরেই সমাধানের পথটিও তৈরি করা থাকে। আমাদের কাজ শুধু দৃষ্টিভঙ্গিটা একটু বদলে সমস্যার বদলে সমাধানের দিকে ফোকাস করা।
আল্লাহ তাআলা বান্দাকে তার সাধ্যের বাইরে কোনো কষ্ট বা দায়িত্ব দেন না। মানুষ যতটুকু ভার বা কষ্ট বহন করতে পারে, তিনি ঠিক ততটুকুই তাকে দেন।
এ বিষয়ে পবিত্র কুরআনের সূরা আল-বাক্বারার শেষ আয়াতে (আয়াত: ২৮৬) আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন:
لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا
"আল্লাহ কাউকে তার সাধ্যের বাইরে দায়িত্ব দেন না।"
পবিত্র কুরআনের এই বাণীটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, জীবনের কঠিন পরিস্থিতিতে যতই চাপ মনে হোক না কেন, তা মোকাবেলা করার শক্তিও আল্লাহ আমাদের ভেতর দিয়ে রেখেছেন।
অশান্ত সাগরেই দক্ষ নাবিক: একটা বিষয় মনে রাখবেন, শান্ত সাগরে কখনো দক্ষ নাবিক তৈরি হয় না; বরং অশান্ত ও উত্তাল সাগরই একজন সাধারণ মানুষকে দক্ষ ও অভিজ্ঞ নাবিক হিসেবে গড়ে তোলে। ঠিক তেমনি, জীবনের প্রতিকূলতা ও ঝড়ঝাপ্টাই মানুষকে শক্তিশালী করে।
সহনশীলতাই হীরা বানায়: আরেকটি বিষয় হলো—হীরা এবং কয়লা মূলত একই উপাদানের হলেও তাদের পরিণতি ভিন্ন হয় পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতার কারণে। কয়লা অতিরিক্ত চাপ সহ্য করতে পারে না বিধায় সে কয়লাই থেকে যায়, আর হীরা চরম চাপ ও তাপ সহ্য করতে পারে বলেই সে পৃথিবীর সবচেয়ে মূল্যবান রত্ন 'হীরা'য় পরিণত হয়।
জীবনের কঠিন চাপ, বাধা-বিপত্তি এবং সংগ্রামই মানুষকে ভেঙে ফেলার জন্য আসে না, বরং তাকে খাঁটি সোনা বা হীরার মতো মূল্যবান ও শক্ত করে তোলার জন্যই আসে। অসাধারণ এই ভাবনাটি শেয়ার করার জন্য অনেক ধন্যবা